পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে মাঠে ভোক্তা অধিকার, অভিযানে জরিমানা ৭ লাখ

0
3

ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধের খবর পাওয়ার পর থেকে বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যটির দাম। এই অবস্থায় বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ী পেঁয়াজের আড়ত ছাড়াও মালিবাগ বাজারে অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং মূল্য তালিকার সঙ্গে বিক্রয় রশিদের গড়মিল থাকায় বেশ কয়েকটি আড়তদারকে প্রায় সাত লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভোক্তা অধিকারের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে ৪১টি টিম বাজার তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েছে। যারা পেঁয়াজ, আদা, আলু ও চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে কি না তা মনিটরিং করে। বিভিন্ন অভিযোগে সারাদেশ ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে ছয় লাখ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম (ট্রাক সেল) মনিটরিং করা হয়।

বাংলাদেশকে যতটুকু পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, তার ৯০ শতাংশ আসে ভারত থেকে। গত বছরের সেপ্টেম্বরেও ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। সেটি তুলে নেয়া হয় চলতি বছরের ১৫ মার্চ। হুট করে গত সোমবার ভারত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেয়। রপ্তানি বন্ধ-এমন খবরে হঠাৎ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়া শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। দুই দিন আগেও নিত্যপণ্যটির দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আর বুধবার এটি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে দেশব্যাপী নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি ও সচেতনতা মূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পেঁয়াজ , আদা, আলু, চালসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। সব ধরনের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীকে অবশ্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। ভোক্তা অধিদপ্তর নিয়মিত সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

বুধবার বিকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আর এক মাস সময় পেলেই বিকল্প বাজার থেকে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ এনে পরবর্তী চাহিদা মেটানো সম্ভব। আমরা অলরেডি মিয়ানমার, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে কথা বলেছি। এক মাস সময় পেলেই সেখান থেকে পেঁয়াজ আনতে পারবো। আর এক মাসের জন্য যে পরিমাণ প্রয়োজন, সেটা আমাদের মজুদ আছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সুযোগ নেয়ায় এবং সাধারণ ক্রেতারা প্যানিক বায়িং করায় পেঁয়াজের বাজারে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here