গাবতলী কাউন্টার বন্ধ থাকলেও রাতভর যাত্রীসেবা দিচ্ছেন তারা

0
3

রাত একটা। রাজধানীর বৃহৎ গাবতলী বাস টার্মিনাল। রাত সাড়ে ১১টা বাজলেই বন্ধ হয়ে যায় গাবতলী বাস টার্মিনালের সব কাউন্টার। কিন্তু কাউন্টার বন্ধ থাকলেও রাতের জরুরি যাত্রীদের নিরাপদে পরিবহনে একদল রাত জাগা মানুষ সহযোগিতা করেছেন যাত্রীদের।

রাত একটায় গাবতলী বাস টার্মিনালে সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ছোট একটি টেবিল, চেয়ার ও বেঞ্চ নিয়ে বসে টিকিট দিচ্ছেন তারা। রাতে অনেক যাত্রীই জরুরি প্রয়োজনে তার নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে আসেন গাবতলী বাস টার্মিনালে। কিন্তু টার্মিনালের কাউন্টার বন্ধ থাকলেও যাত্রীরা নিরাপদে পৌঁছাতে পারেন নিশ্চিন্তে।

ভ্রাম্যমাণ কাউন্টারের মালিক দেলোয়ার হোসেন দিলু ব্রেকিংনিউজকে জানান, রাত ১২টার পর কাউন্টার বন্ধ হয়ে গেলে আমরা সেবা প্রদান করে থাকি। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে যাত্রীদের সেবায় আমরা নিয়োজিত রয়েছি।

তিনি আরো বলেন, চট্রগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, রংপুরসহ সারাদেশের বাসে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছায়। অনেক সময় দেখা যায়, রাতে একশো টাকা হাতে করে আমাদের এখানে এসেছে খুলনা যাওয়ার জন্য। তাকেও আমরা ফিরিয়ে দিই না। এমনকি টাকা না থাকলেও আমরা যাত্রীদের বাসে তুলে দেওয়ার ক্ষমতাও আমরা রাখি। প্রতিদিন রাতভর যাত্রীদের সেবায় রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নিয়োজিত থাকি।

কুষ্টিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে মিজানুর রহমান নামের একজন এসেছেন গাবতলী বাস টার্মিনালে। কিন্তু সে এসে দেখেন বাসের সব কাউন্টার বন্ধ। উপায় না পেয়ে গাড়ির জন্য রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো বাসই তাকে নিচ্ছিলো না। এরপর রাস্তার পাশেই ভ্রাম্যমাণ কাউন্টার দেখে এগিয়ে এলে তাকে কুষ্টিয়ার শ্যামলী পরিবহনে তুলে দেন।

খুলনা যাওয়ার জন্য এসেছেন রফিকুল ইসলাম। তার শাশুড়ি মারা গেছেন এই খবর শুনে তিনি রাতেই বাড়িতে যাওয়ার জন্য গাবতলী এসেছেন। কিন্তু কাউন্টার বন্ধ দেখে ভ্রাম্যমাণ কাউন্টারে এসে টিকিট কেটে বাসে উঠেন।

তিনি ব্রেকিংনিউজকে বলেন, হঠাৎ খবর এলো রাতে আমার শাশুড়ি মারা গেছেন। পরে উপায় না দেখে গাবতলী চলে আসি। এরপর ভ্রাম্যমাণ কাউন্টারে এসে টিকিট পায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here