ফজরের নামাজ পড়ে নিজে চা বানান ও ছিপ দিয়ে মাছ ধরেন প্রধানমন্ত্রী

0
25

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি নামাজের জন্য জায়নামাজ খোঁজেন। নামাজ শেষে কোরআন তেলাওয়াত করেন। তারপর নিজেই এককাপ চা বানিয়ে নেন। এছাড়া বর্তমান করোনাকালে সকালে কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করার পর বঙ্গভবনের লেকে ছিপ দিয়ে মাছ ধরেন।

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

ফখরুল ইমাম তার সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব প্রশ্নেই সম্পূরক প্রশ্ন। আমি একটি ডায়ালগ বলতে চাই, আপনি চাকরি করেন, আপনার মাইনে দেয় এ গরিব কৃষক, আপনার মাইনে দেয় এ গরিব শ্রমিক, আপনার সংসার চলে এ টাকায়। আমি গাড়িতে চলি ওই টাকায়, ওদের সম্মান করে কথা বলেন, ওদের ইজ্জত করে কথা বলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, এ কথাটা কার। আমার প্রশ্ন হলো, এখনও এই সরকার এ কথাগুলোর ওপর ভরসা করে কি না? আরেকটি হলো ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা অনেক কিছু দেখি বা অনেক কিছুই জানি। ঘুম থেকে ওঠার পর শিশুরা মা খোঁজে, যুবকেরা বউ খোঁজে, আমি মোবাইল খুঁজি। আমার স্ত্রী ঘরদোড় পরিষ্কার করার জন্য ঝাড়ু খোঁজেন। আমার প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী ঘুম থেকে উঠে কী খোঁজেন?’

ফখরুল ইমামের এই সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকালে উঠে আমি জায়নামাজ খুঁজি। সকালে উঠে আগে নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে কোরআন তেলাওয়াত করি। তারপর এক কাপ চা নিজে বানাই। সকালের চা আমি নিজে বানিয়ে খাই। চা-কফি যাই বানাই নিজে বানিয়ে খাই। ছোট বোন বাসায় থাকলে দুজনের যে আগে ওঠে সে বানায়। মেয়ে পুতুল আছে। সেও আগে উঠলে বানায়। ঘুম থেকে ওঠার আগে নিজের বিছানাটা নিজে গুছিয়ে রাখি। এরপর বই-টই যা পড়ার পড়ি। আর ইদানিং করোনা ভাইরাসের পরে সকালে একটু হাঁটতে বের হই। তবে আরেকটা কাজ করি এখন। সেটা বললে কী হবে (হেসে ফেলেন)। বঙ্গভবনে একটি লেক রয়েছে। হাঁটার পরে লেকের পাড়ে যখন বসি, তখন ছিপ নিয়ে বসি। মাছ ধরি।’

পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাছ থেকে সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষা পেয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আব্বার নির্দেশ ছিল একজন রিকশাওয়ালাকেও আপনি বলে সম্বোধন করতে হবে। ড্রাইভারকে ড্রাইভার সাহেব বলতে হবে। কাজের যারা লোকজন তাদের কখনও চাকর-বাকর বলা যাবে না। হুকুম দেয়া যাবে না। তাদের কাছে কিছু চাইতে হলে সম্মান করে ভদ্রভাবে চাইতে হবে। যে কারণে আমি প্রধানমন্ত্রী হতে পারি, যতদূর পারি নিজে করে খাই।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কিন্তু এখনও আমার বাড়িতে কাজের মেয়ে যারা আছে, কারও কাছে যদি এক গ্লাস পানিও কখনও চাইতে হয়, তাদের জিজ্ঞাসা করি, আমাদের এটা দিতে পারবে? এই শিক্ষাটা আমরা নিয়ে আসছি। এই শিক্ষা বাবা আমাদের দিয়ে গেছেন। এখনও মেনে চলি। আমরা সবাইকে সমান সমাদর করি। বরং যাদের কিছু নেই তাদের দিকে একটু বেশি নজর দিই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here