‘পাটকল বন্ধ করে সরকার প্রধানের সাফল্য প্রচার করা হাস্যকর’

0
9

মাথা ব্যথায় মাথা কেটে বাদ দেয়ার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই। বরং জুট সেক্টরের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিলে পাটকল বন্ধ করে অর্ধলাখ মানুষকে বেকারসহ পাটখাতে উৎপাদক কৃষক, ফড়িয়া ব্যবসায়ী, পাট সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকসহ শিল্পাঞ্চলে পাটশিল্পের সাথে জড়িত কয়েক লাখ মানুষের জীবনজীবিকা অনিশ্চিয়তার দিকে ঠেলে দেয়ার পদক্ষেপ কোনোভাবেই মধ্যম আয়ের দেশের কৃতিত্ব হতে পারে না।

শুক্রবার (৩ জুলাই) খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলসমূহে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদের প্রতিক্রিয়ায় খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত বক্তব্য দেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি দল নিজেদের শ্রমিকবান্ধব দল হিসেবে প্রচার করলেও মিল বন্ধ করার আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের কারণে বেকার হলো লাখো পরিবার। তাদের এ পদক্ষেপে প্রমাণ হল আওয়ামী লীগের কথায় ও কাজে কোনো মিল নাই।

পাবলিক প্রাইভেট অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কলকারখানা চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা আমাদের ভালো নয়। আজকে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল চালাতে ব্যর্থ হলেও শহীদ জিয়াউর রহমান পাটকলে তিন শিফট চালু করে ছিলেন। আর আজকে পাটকল বন্ধ করে সরকার প্রধানের সাফল্য প্রচার করা বড়ই হাস্যকর। শত বছরের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাময় পাটশিল্প বাংলাদেশে বন্ধ হলে বিশ্বে পাটের কর্তৃত্ব ভারতের হাতে চলে যাবার আশঙ্কা প্রবল।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে যখন জনজীবন বিধ্বস্ত নিম্নআয়ের মানুষ যখন বেঁচে থাকার সংগ্রামে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন পাটশিল্প বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত বিনামেঘে বজ্রপাতের মতোই। নেতৃবৃন্দ দেশের পাটশিল্প ধ্বংসের জন্য দায়ী সরকারী অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া, বিশ্বে নতুন করে পাটের চাহিদা বৃদ্ধির বিষযটির সাথে দেশের শিল্পকে কাজে লাগিয়ে পাটশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার কোন পদক্ষেপ নিল না সরকার। বরং পাটকল শ্রমিকদের উপর দায় চাপিয়ে তাদের পাওনা পরিশোধের আগাম ব্যবস্থা না নিয়ে জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে এক তরফাভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দলের মহড়ার মধ্যে রাতের অন্ধকারে  মিল গেটে বন্ধের নোটিশ প্রদান সরকারের অমানবিক ও স্বৈরাচারী পদক্ষেপ।

বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দ সরকারকে আরও বেশি মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনবিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিদাতারা হলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ভাষাসৈনিক এম নুরুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশাররফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, এড. ফজলে হালিম লিটন, স ম আব্দুর রহমান, শেখ ইকবাল হোসেন, শেখ জাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মোঃ মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এসএম আরিফুর রহমান মিঠু ও ইকবাল হোসেন খোকন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here