চলছে না মামলা, কেমন আছেন পাপিয়া

0
15

গেল ফেব্রুয়ারিতে শুদ্ধি অভিযান চলাকালে স্বামীসহ বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে গ্রেফতার হওয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বহুল আলোচিত শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলার অভিযোগপত্র দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। তার বিরুদ্ধে করা অপর তিনটি মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলা বলছেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে পাপিয়াকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। সে কারণে মামলাগুলোর তদন্তকাজও এগোচ্ছে না এবং মামলাগুলো আটকে আছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা বলছেন, তাদেরও অনেক কর্মকর্তা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে তারা তদন্ত কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান র‌্যাব গ্রেফতার করার পর বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি, অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অবৈধ ৫ কোটি টাকার খোঁজ পেয়ে পাপিয়া ও তার সহযোগীদের মানি লন্ডারিং আইনে আরেকটি মামলা করে। একইসময়ে দুদকও তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে। গ্রেফতারের পরপরই পাপিয়াকে নরসিংদী যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। গ্রেফতার পাপিয়া ও তার সহযোগীরা এখন কারাগারে আছেন।

কারাগারে কেমন আছেন পাপিয়া? রাতারাতিই যেন বদলে গেছে অন্ধকার জগতের ‘লেডি ডন’ খ্যাত শামীমা নূর পাপিয়ার জীবন। যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত বহুল আলোচিত এই নেত্রীর কাছে পাঁচতারা হোটেল বিলাসবহুল ঘর এখন দিবাস্বপ্নই বটে। আর বিলাসী জীবন, সে-তো দুঃস্বপ্ন। যার সূর্য ওঠে কারাগারের অন্ধকার কুঠুরিতে, আবার সন্ধ্যা ঝুলে পড়ে গারদের লোহার দেয়ালে, তার কাছে এসব বিলাসিতা দুঃস্বপ্নই। কারাগারের বন্দি জীবনে অতীত পাপের খেসারত দিচ্ছেন অন্ধকার দুনিয়ার সম্রাজ্ঞী পাপিয়া। এখন তার সময় চলছে কচ্ছপের পিঠে চড়ে। আচরণে কোনও অনুতাপ নেই। নেই অহমিকা। চলাফেরায় ভাবলেশহীন। নির্লিপ্ত দিনযাপন। এমনই তথ্য মিলেছে কারাসূত্রের সঙ্গে তার সম্পর্কে আলাপচারিতায়।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) রিমান্ডের মাঝপথে তাকে কাশিমপুর কারাগারের হাজতে পাঠানো হয়। তিন মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হলেও পাপিয়ার আরও ১০ দিনের রিমান্ডের অপেক্ষা।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, নিঃসঙ্গ জীবনে পাপিয়ার মধ্যে কোনও অনুশোচনা নেই। সংবেদনশীল আসামি হওয়ায় বন্দি সেলে পাপিয়ার কারও সঙ্গে সেভাবে মেলামেশারও সুযোগ নেই। তাকে আলাদাই রাখা হয়েছে। কারাগারে আসার পর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ তার সঙ্গে দেখাও করতে আসেনি।

গ্রেফতারের আগে গুলশানের অভিজাত হোটেল ওয়েস্টিনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ভাড়া নিয়ে মাসে কোটি টাকা বিল গুণতেন যুবলীগের এই নেত্রী (পরে বহিষ্কৃত)। দিনরাত সঙ্গে থাকত ৭ জন অল্পবয়সী তরুণী। আর তার মঞ্জিলে আনাগোনা ছিল সমাজের নানা পর্যায়ের এলিট মানুষের।

কাশিমপুর কারা সূত্র জানিয়েছে, সংবেদনশীল আসামি হওয়ায় পাপিয়াকে রাখা হয়েছে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ একটি সেলে। তার সঙ্গে আর কোনো বন্দি নেই। দিন-রাত একাকী কাটে ছোট্ট ঘরের চার দেয়ালে। মাঝেমধ্যে বই পড়েন। বাকি সময় শুয়ে-বসে আর ঘুমিয়েই কাটান একসময়ের পাঁচতারকা হোটেলের বিলাসী গ্রাহক পাপিয়া। তার মধ্যে কোনও অনুশোচনা বোধ নেই। তবে মাঝেমধ্যে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করেন। বিলাসবহুল চলাচলে অভ্যস্ত পাপিয়া এই বন্দি পরিবেশ মানিয়ে নিতে শুরুর দিকে কষ্টই করেছেন।

সম্প্রতি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আনোয়ার রিপন ব্রেকিংনিউজকে বলেছিলেন, ‘পাপিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি ভালো আছে এবং তিনি সুস্থ আছেন। কোনও সমস্যা নেই। আমরা নিয়মিত তার খোঁজ রাখি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here