করোনা আতঙ্ক: চার কন্যার কাঁধে বাবার মরদেহ

0
40

কেউ এগিয়ে আসেনি। না আত্মীয়, না পাড়া প্রতিবেশী, কেউ না। কি অমানবিক, কি নির্মম! অসহায় শিশুদের কান্নায় কারো মন গলেনি। কোন উপায় না দেখে নিজেরাই কাঁধে তুলে নেয় বাবার নিথর দেহ। করোনা কি নিষ্ঠুর। মানুষকে করেছে কি অমানুষ। আতঙ্ক ছড়ানো করোনা ভাইরাস বদলে দিয়েছে মানুষের আচার-আচরণ। গোটা বিশ্বের নানা প্রান্তে এখন নানা হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটছে। যেমনটি ঘটলো ভারতে।

করোনা ঠেকাতে ভারতজুড়ে চলছে লকডাউন। প্রতি মুহূর্তে বলা হচ্ছে, বাঁচতে হলে একমাত্র অস্ত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। আর সেই সামাজিক দূরত্বের কারণে এবার মৃত্যুর পর এক ব্যক্তির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিল না কেউ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভারতের উত্তর প্রদেশের আলীগড়ের নুমাইশ ময়দানের চা-হেলিংয়ের বাসিন্দা ছিলেন বছর ৪৫ এর সঞ্জয় কুমার। পেশা চা বিক্রেতা হলেও বেশ কিছুদিন ধরে যক্ষ্মা রোগে ভুগছিলেন তিনি। অভাবের সংসারে সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ এনেই কোনও রকমে নিজের রোগের মোকাবিলা করছিলেন সঞ্জয়। এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে, আর চার মেয়ে অভাবের কারণেই পড়াশোনা ছেড়ে ঘরের কাজ করে।

তবে চরম দারিদ্রতার মধ্যেও কারও সাহায্য নেননি সঞ্জয় কুমার। সম্প্রতি তার শরীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু ভারতজুড়ে চলছে লকডাউন। সরকারি হাসপাতালেও ওষুধের সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খাওয়া সম্ভব ছিল না তার পক্ষে। শেষরক্ষা হয়নি আর। অবশেষে মারা গেলেন তিনি।

কিন্তু আতঙ্ক আর সামাজিক দূরত্ব কারণে তার মৃত্যুর পর সৎকারের কাজেও এগিয়ে আসেনি কেউ। শেষে চার মেয়েই কাঁধে করে বাবার মরদেহ নিয়ে যায় শ্মশানে। শেষ বিদায় দেয় প্রিয় বাবাকে। সেখানেই হয় শেষকৃত্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here