৫ টাকার বেশি ধার নিতে পারবেন না মোবাইল গ্রাহকরা

0
5

বন্ধ হচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলোর ২০০ টাকা পর্যন্ত ধার দেয়ার সংস্কৃতি। গ্রাহকদের বিড়ম্বনার বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন থেকে মোবাইলে কথা বলার জন্য ৫ টাকার বেশি ধার বা ঋণ দিতে পারবে না মোবাইল ফোন অপারেটররা।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার এবং টেলিযোগাযোগ সেবার ওপর বিটিআরসি নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে আয়োজিত এক গণশুনানিতে এক গ্রাহকের অভিযোগের পর বিটিআরসি এ তথ্য জানায়। বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে গ্রাহকের অজান্তে টাকা কেটে নেয়া এবং শুধুমাত্র বাণিজ্যিক কারণে এসএমএস ও কল করে বিরক্ত করা, নেটওয়ার্কের নিম্নমান, দ্রুতগতির ইন্টারনেট না থাকা, গ্রামে নিম্নমানের সেবা, কলরেট ও ইন্টারনেটের দাম নিয়ে নানা অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। ১৬৫ জন গ্রাহক অভিযোগকারী হিসেবে আমন্ত্রণ পেলেই মোট ৩০ থেকে ৩২ জনকে অভিযোগ করার জন্যর ফ্লোর দেয়া হয়।

এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, অপারেটররা ২০০ টাকা পর্যন্ত ধার দিচ্ছে। ধার নিয়ে টাকা খরচের পর যতবার ছোট অংকের অর্থ রিচার্জ করা হচ্ছে, ততবার টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে। মানুষ ধার নেয় সাধারণত জরুরি প্রয়োজনে। তাই পরিমাণ ৫-১০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। গ্রাহকের এমন অভিযোগের পর ৫ টাকার বেশি ধার না দেয়ার সিদ্ধান্ত আসে।

এ সময় বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক, মহাপরিচালক এ বি এম হুমায়ুন কবিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে উপস্থিত থেকে গ্রাহকরা মোট ১৭টি প্রশ্ন করেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে ৩০-৩৫টি প্রশ্ন আসে।

গণশুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য ২৪ মে আবেদন আহ্বান করা হয়। ২০২ জন নিবন্ধন করেন। তাদের মোট প্রশ্ন ছিল ১ হাজার ৩১৯টি।

দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী জাহিদুল ইসলাম বিদ্যমান অপারেটরগুলোকে নিয়ে আলাদা আলাদা গণশুনানির দাবি জানান। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অংশগ্রহণকারী আমিনুল মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিটিআরসির কার্যালয় ও গণশুনানির ব্যবস্থা করার দাবি জানান। এ সময় বিটিআরসির কর্মকর্তারা বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।

বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মোবাইল অপারেটর ও টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্বপ্রাপ্ত পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামত দেন। বিশেষ পদ্ধতিতে ১৬৫ জনকে গণশুনানিতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here