স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়া হলো না হবিগঞ্জের অনার্সের দু ছাত্রের নৌকা ডুবে নিখোঁজ।

0
14

হবিগঞ্জের লোকড়া গ্রামে অনার্সে অধ্যয়নরত দু ছাত্রের নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের দারিদ্রতা গোছাতে জীবন বাঁজি রেখে সাতসাগর ফাঁড়ি জমিয়ে তারা যেতেছিল স্বপ্নের দেশ ইতালি, সুন্দর  জীবন গড়তে গিয়ে গড়া হলো না। পথিমধ্যেই জীবন অবিশান উঠে। নিঃশব্দে পরিবারকে শোকের ছায়ায় ভাঁসিয়ে দিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন তারা কাইয়ুম ও মোক্তাদির সঙ্গের আরেকজন মামুন ভাগ্যেরগুনে বেঁচে যান। এ ঘটনাটি ঘটে
ইতালি যাবার পথে আফ্রিকার ভু-মধ্য সাগরে নৌকা ডুবি হবিগঞ্জের দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। পরিবারে ও হবিগঞ্জ জেলায় নেমে আসে শোকের ছায়া।  গত বৃহস্পতিবার  নৌকা যোগে অবৈধ  পথে ইতালি যাবার জন্য ৭৫ অভিবাসী বহনকারী নৌকাটি আফ্রিকার তিউনিসিয়া উপকূলে ভু-মধ্য সাগরে ডুবে যায়।নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে, ছয় মাস আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লোকড়া গ্রামের হাজী আলাউদ্দিনের পুত্র আব্দুল কাইয়ুম (২৫) ও আব্দুল জলিলের পুত্র আব্দুল মোক্তাদির (২৪) দুজনেই হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজে অনার্সে অধ্যয়রত ছিলেন। জানা যায়,গত ৯ মে রাতে দালালদের মাধ্যমে অবৈধ পথে স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে আব্দুল কাইয়ুম ও আব্দুল মোক্তাদির নৌকায় ওঠেন। ওই নৌকায় ৭৫ জনের মধ্যে ৫১ জনই বাংলাদেশী এর মধ্যে দুজন রয়েছেন হবিগঞ্জের। তাদের আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেল সাগরে। একই গ্রামের মামুন মিয়া (২৬) ও নুরুল আমিন (৩০) তাদেরকে নেয়া হচ্ছিল  দুটি নৌকায় ভাগ করে। প্রথম নৌকায় ওঠেন নুরুল আমিন। ওই নৌকাটি না ডুবায় তিনি স্বপ্নের দেশ ইতালিতে পৌঁছেন।পরবর্তী নৌকায় ওঠেন বাকী  তিনজন নৌকাটি আফ্রিকার তিউনিসিয়া উপকূলে ভু-মধ্য সাগরে ডুবে যায়। এ সময় স্থানীয় জেলেরা হবিগঞ্জের মামুনসহ কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। ভাগ্যেরগুনে মামুন বেঁচে গেল ও হবিগঞ্জের  অন্য দুজন কাইয়ুম ও মোক্তাদির নিখোঁজ রয়েছেন। এ ব্যাপারে লোকড়া ইউপি সদস্য জাহির মিয়া জানান, উদ্ধার হওয়া মামুন আমার ভাগনা। মোবাইলে মামুন মিয়া জানিয়েছেন, নৌকাডুবির পর মোক্তাদিরের সঙ্গে তিনি হাত ধরে সাঁতার কেটেছেন  অনেকক্ষণ। হাত ছেড়ে দেয়ার পর আর মোক্তাদিরকে দেখতে পাননি। আব্দুল কাইয়ুমের বাবা হাজী আলাউদ্দিন জানান,গত বুধবার তার পুত্র বাড়িতে ফোন করে ইতালি যাওয়ার বিষয়টি জানায়।নৌকা ডুবির পর থেকে তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মোক্তদিরও রওনা দেয়ার আগের দিন বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছেন তার চাচা আব্দুল খালেক। মোক্তাদিরের মা-বোন ও তাদের পরিবারের আহাজারি করছেন। এদিকে কাইয়ুমের পিতা আলাউদ্দিন ও মা কাইয়ুমের ঘরে তাকা ছবি হাতে নিয়ে আহাজারি করছেন। কাইয়ুম ও মোক্তাদিরের ফাইল ছবি। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ পি,পি,এম  এর সাথে আমাদের হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মীর মোঃ আব্দুল কাদির ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এব্যাপারে আমরা কোন লেখিত অভিযোগ পাইনি, আমাদের সংস্থা গোপনে তদন্ত করছেন, তাদেরকে বৈধ- না অবৈধভাবে পাঠানো হতে ছিল, তদন্ত না করা পর্যন্ত বলতে পারবনা। যদি কোন অভিযোগ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব, তিনি যত বড় ক্ষমতাশালীই হোক না কেন।
> মীর মোঃ আব্দুল কাদির হবিগঞ্জ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here